পাকিস্তানের মার্কিন কনস্যুলেটে সেনাদের গুলি, খামেনি হত্যার প্রতিবাদে নিহত ২৪
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির হত্যার প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল পাকিস্তান। এই বিক্ষোভের সময় করাচিতে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেটে হামলা চালান ক্ষুব্ধ মানুষ। এ সময় কনস্যুলেটের দেয়াল ভেঙে ভেতরে ঢোকার চেষ্টাকালে বিক্ষোভকারীদের লক্ষ্য করে মার্কিন মেরিন সেনারা গুলি চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।
দুইজন মার্কিন কর্মকর্তা মেরিন সেনাদের গুলি চালানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। করাচির এই ঘটনায় অন্তত ১০ জন মারা গেছেন। তবে নিহতরা সরাসরি মেরিন সেনাদের গুলিতেই প্রাণ হারিয়েছেন, নাকি স্থানীয় পুলিশ বা নিরাপত্তারক্ষীদের গুলিতে—তা এখনো পরিষ্কার নয়। সিন্ধ প্রদেশের সরকারের পক্ষ থেকেও স্পষ্ট করে বলা হয়নি ঠিক কোন বাহিনী গুলি চালিয়েছে।
খামেনি নিহতের জেরে পুরো পাকিস্তানেই এখন সহিংসতা ছড়িয়ে পড়েছে। পরিস্থিতি সামলাতে পাকিস্তান সরকার সেনাবাহিনী নামিয়েছে এবং কিছু স্পর্শকাতর এলাকায় তিন দিনের কারফিউ জারি করেছে। গত রোববার (১ মার্চ) সারা দেশে বিক্ষোভকারী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সংঘর্ষে অন্তত ২৪ জন নিহত এবং বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
নিহতদের হিসাবের মধ্যে—সোমবার ভোর থেকে কারফিউ জারি হওয়া গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে সংঘর্ষে অন্তত ১২ জন বিক্ষোভকারী এবং একজন নিরাপত্তা কর্মী মারা গেছেন। এছাড়া করাচির মার্কিন কনস্যুলেটের সামনে ১০ জন এবং রাজধানী ইসলামাবাদে মার্কিন দূতাবাসের দিকে যাওয়ার পথে আরও ২ জন বিক্ষোভকারী নিহত হন।
সার্বিক পরিস্থিতির ব্যাপক অবনতি হওয়ায় পাকিস্তানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও কনস্যুলেটের নিরাপত্তা চরমভাবে জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।
