এবার শহীদ হলেন আয়াতোল্লাহ খামেনির স্ত্রী
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল জোটের মধ্যকার চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত এবার কেড়ে নিল আরও এক হাই-প্রোফাইল প্রাণ। স্বামী আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর শোক কাটতে না কাটতেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়লেন তার স্ত্রী মানসুরেহ খোজাস্তে বাঘেরজাদেহ। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) তেহরানে খামেনির কম্পাউন্ডে চালানো যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ প্রাণঘাতী বিমান হামলায় তিনি গুরুতর আহত হয়েছিলেন। অবশেষে সোমবার (১ মার্চ) তেহরানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৭৯ বছর। পবিত্র নগরী মাশহাদে জন্মগ্রহণ করা মানসুরেহ ছিলেন ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ইরান ব্রডকাস্টিং’-এর সাবেক উপ-পরিচালক হাসান খোজাস্তে বাঘেরজাদেহর বোন। ১৯৬৪ সালে আলী খামেনির সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন তিনি। সর্বোচ্চ নেতার পর তার স্ত্রীর এই মৃত্যু ইরানের জন্য নিঃসন্দেহে এক বড় মানসিক ধাক্কা।
খামেনির হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই মধ্যপ্রাচ্য কার্যত এক বারুদের স্তূপে পরিণত হয়েছে। নেতার মৃত্যুর চরম প্রতিশোধ নিতে ইরান যে যুদ্ধের দামামা বাজিয়েছে, তা এখন আরও তীব্র। রোববার এক কড়া টেলিভিশন ভাষণে ইরানি প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান এই হামলাকে সরাসরি ‘মুসলিম উম্মাহর বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন। তিনি বজ্রকণ্ঠে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এই ঐতিহাসিক অপরাধের পরিকল্পনাকারী ও বাস্তবায়নকারীদের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়া এখন ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরানের বৈধ অধিকার ও অবশ্য কর্তব্য।
কথার পাশাপাশি বাস্তবেও শুরু হয়েছে সামরিক আস্ফালন ও মনস্তাত্ত্বিক যুদ্ধ। ইতিমধ্যেই পারস্য উপসাগরে একাধিক মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইরান। তেহরানের দাবি—গত রোববার তাদের ছোঁড়া অন্তত চারটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র মার্কিন বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন’-এ সরাসরি আঘাত হেনেছে। তবে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (CENTCOM) এই দাবিকে পুরোপুরি ভিত্তিহীন বলে নাকচ করে দিয়েছে। অন্যদিকে, খোদ ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয়ে হামলার যে দাবি ইরান করেছে, তাকেও ‘ডাহা মিথ্যাচার’ বলে উড়িয়ে দিয়েছে তেল আবিব। সংঘাতের ময়দানে এখন মিসাইলের পাশাপাশি চলছে তীব্র প্রোপাগান্ডা যুদ্ধ।
তবে এই পাল্টাপাল্টি দাবির আড়ালে লুকিয়ে আছে লাশের নির্মম পরিসংখ্যান। ইরানি রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির দেওয়া তথ্যমতে, চলমান এই সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে এখন পর্যন্ত অন্তত ৫৫৫ জন প্রাণ হারিয়েছেন। রক্তপাত আর ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়েছে দেশটির ১৩০টিরও বেশি শহরে।
বিপরীতে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলও হাত গুটিয়ে বসে নেই। তারা দাবি করেছে, ইরানের একাধিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ কেন্দ্র এবং নৌবাহিনীর যুদ্ধজাহাজ ইতিমধ্যেই ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছে। মিসাইল আর ড্রোনের এই পাল্টাপাল্টি আস্ফালনে পুরো অঞ্চল এখন খাদের কিনারায় দাঁড়িয়ে এক সর্বনাশা যুদ্ধের প্রহর গুনছে।
