কি হবে জুলাই হত্যা মামলায় শেখ হাসিনার রায়? ১৭ নভেম্বর আদালত পাড়ায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার!
জুলাইজুড়ে দেশের নানা স্থানে সংঘটিত সহিংসতা ও হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষিতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে পাঁচটি অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। প্রসিকিউশন দাবি করেছে, সামগ্রিক ঘটনার পরিমাণ এত বিস্তৃত ছিল যে প্রতিটি হত্যার বিচার করা সম্ভব হয়নি; তাই প্রমাণযোগ্য ও গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচিত পাঁচটি অভিযোগ আদালতের সামনে উপস্থাপন করা হয়েছে। এসব অভিযোগ আপাতত বিচারাধীন এবং আদালত এখনো কোনো রায় দেয়নি।
প্রথম অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৪ জুলাই গণভবনে বসে আন্দোলনকারীদের সম্পর্কে ‘উসকানিমূলক’ বক্তব্য দেন শেখ হাসিনা। প্রসিকিউশন বলছে, ওই বক্তব্যের পর আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও ক্ষমতাসীন দলের কর্মীরা ব্যাপক হামলা চালায় বলে তাদের অভিযোগ। এতে হত্যাকাণ্ড, নির্যাতন এবং হামলার ঘটনা ঘটে বলে দাবি করা হয়।
দ্বিতীয় অভিযোগে বলা হয়, আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। হেলিকপ্টার থেকে গুলি ছোড়া, ড্রোন ব্যবহার এবং চিহ্নিত করে হামলার নির্দেশের অভিযোগ প্রসিকিউশন আদালতে উপস্থাপন করেছে।
তৃতীয় অভিযোগটি ১৬ জুলাই রংপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে আবু সাঈদ নামের এক ছাত্র নিহত হওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে। প্রসিকিউশন বলছে, এই হত্যাকাণ্ড নির্দেশনা ও উসকানির মাধ্যমে সংঘটিত হয়েছে।
চতুর্থ অভিযোগে, ৫ আগস্ট ঢাকার চাঁনখারপুল এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর গুলিতে ছয় ছাত্রের মৃত্যু নিয়ে তিনজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
পঞ্চম অভিযোগে বলা হয়, একই দিনে আশুলিয়ায় ছয়জনকে হত্যা এবং পাঁচজনের মরদেহ পুড়িয়ে ফেলার ঘটনা মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে ট্রাইব্যুনালে উপস্থাপিত হয়েছে।
প্রসিকিউশন দাবি করছে, ৫৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য, জমা দেওয়া ভিডিও–অডিও এবং অন্যান্য উপকরণে অভিযোগগুলো প্রমাণিত হয়েছে। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখন ট্রাইব্যুনালের তিন বিচারকের হাতে—যারা খালাস, নির্দিষ্ট মেয়াদে কারাদণ্ড, আমৃত্যু কারাবাস অথবা সর্বোচ্চ দণ্ড—যে কোনো রায় দিতে পারেন।
এখন দেশের রাজনৈতিক ও আন্তর্জাতিক মহল তাকিয়ে আছে ট্রাইব্যুনালের দিকে, যেখানে জুলাইয়ের ঘটনাগুলোর বিচারিক চূড়ান্ততা নির্ধারিত হবে।
#BanglaNews#NewsDesk#JusticeProcess#JulyViolence#TribunalUpdate#hasinajustice
এমএফ…..
